ইসলামের নামে ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ১
*❀ ❀ ﷽ ﷽ ﷽ ﷽ ﷽ ❀ ❀*
ইসলামের নামে ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ১
বর্তমানে মুসলমানদের ধর্মীয় দুর্বলতার সুযোগে অনেক খাজাবাবা ও ভাণ্ডারী দরবার শরীফ-এর ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক সরলপ্রাণ মুসলমান হক্কানী উলামায়ে কিরাম থেকে জিজ্ঞেস না করে দুনিয়ার সকল সুযোগ-সুবিধা ঠিক রেখে অতি সহজে বেহেশত লাভের আশায় তাদের দরবারে ধর্ণা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ঐসব দুনিয়াদার, ভণ্ড, খাজা বাবাদের খপ্পরে পড়ে নিজের যতটুকু দ্বীনদারী ও ঈমান-আক্বীদা ছিল, তাও বিসর্জন দিয়ে দেয়। ঐসব বাবাদের অনেকে নামায-রোযার কোন ধার ধারে না। [তাদের ভাষায়] তাদের নাকি বাতেনীভাবে ঐসব ইবাদত-বন্দেগী আদায় হয়ে যায়। তাদের দরবারে শিরক-বিদআত ও গান-বাদ্য,বেপর্দা, মদ-গাঁজা ইত্যাদি চলতে থাকে। তারপরও নাকি তারা আল্লাহর বিশিষ্ট ওলী এবং অনেক অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী!
এ ধরণের বিশ্বাসও কুফরী আক্বীদা। কারণ, শরী‘আতের বিধান এই যে, আল্লাহ তা‘আলার হুকুমকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাত অনুযায়ী পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নকারী ব্যক্তিই একমাত্র আল্লাহর ওলী হতে পারেন। *[সূত্র: সূরা ইউনুস, আয়াত ৬২।]*
যে ব্যক্তি ইবাদত-বন্দেগীর ধার ধারে না, শিরক-বিদ‘আত ও বিভিন্ন হারাম কাজের মধ্যে মশগুল থাকে, সে কখনো আল্লাহর ওলী হতে পারে না।
চাই সে যত বড় অলৌকিক ঘটনা দেখাক না কেন, বা সে বাতাসে উড়তে সক্ষম হোক না কেন! এসব জিনিস আল্লাহর ওলী হওয়ার কোন দলিল নয়। কিয়ামতের পূর্বে যে ‘কানা দাজ্জাল’ আসবে সেও অনেক আশ্চর্যজনক ঘটনা মানুষদেরকে দেখাবে। অথচ সে আল্লাহর দুশমন। *[সূত্র: তিরমিযী, খণ্ড-২ পৃষ্ঠা -৪৮। মিশকাত শরীফ, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা ৪৭৩।]*
এ কথা ঠিক যে, সকলের নিজের আত্মার রোগসমূহের চিকিৎসার জন্যে প্রত্যেকেরই কোন হক্কানী বুযুর্গের সাহচর্য লাভ করা এবং আত্মার রোগের চিকিৎসা করা জরুরী। দিলের রোগের চিকিৎসা না করালে, এর একটা রোগের পরিণতিতে সমগ্র জীবনের ইবাদত-বন্দেগী বাতিল হয়ে যেতে পারে। যেমন, হাদীসে ইরশাদ হয়েছে, কিয়ামতের দিন ইখলাসের অভাবে, রিয়ার কারণে সর্বপ্রথম একজন শহীদ, একজন আলিম ও একজন দানশীলকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। সুতরাং, এ ব্যাপারে খুবই সর্তক দৃষ্টি রাখা জরুরী। কিন্তু বর্তমানে এ বিষয়টি সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। দ্বীনদার লোক বলতে যাদেরকে বোঝায়, তাদের থেকেও এটা বিদায় নিয়ে এখন বিলুপ্তির পথে আছে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে তিনটি উদ্দেশ্যে বাস্তবায়নের জন্যে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন, তা হচ্ছে-তাবলীগ, তা‘লীম ও তাযকিয়া। এর মধ্যে তাযকিয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। *[সূত্র: সূরা বাকারাহ, আয়াত ১২৯, সূরা জুমুআ, আয়াত-২।]* এর জন্যে হক্কানী বুযুর্গের সাহচর্য লাভ করে আত্মশুদ্ধি করাকে হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. ফরযে আইন বলেছেন। *[সূত্র: আল ইলমু ওয়াল উলামা, পৃষ্ঠা ১৮৭।]*
হক্কানী বুযুর্গের আলামত হযরত থানভী রহ. ‘কসদুস সাবীল’ নামক কিতাবে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। *তন্মধ্যে হতে কয়েকটি নিম্নরূপ:*
*ক.* যিনি মাদরাসায় পড়ে বা কোন হক্কানী বুযুর্গের সান্নিধ্যে থেকে দ্বীনের ওপর চলার জন্যে প্রয়োজনীয় ফরযে আইন পরিমাণ ইলম অর্জন করেছেন এবং তার প্রত্যেকটি কাজ শরী‘আত ও সুন্নাত মুতাবিক।
*খ.* যিনি কুফর, শিরক, বিদ‘আত, হারাম বা কোন গুনাহের কাজে লিপ্ত নন এবং তিনি অর্থলোভীও নন। যেমন, তিনি তার পায়ে মুরীদকে সিজদার অনুমতি দেন না, ওরস করেন না, গানবাদ্য শুনেন না, মদ-গাঁজা পান করেন না, দাড়ি মুণ্ডন করেন না বা এক মুষ্টির চেয়ে কম করেন না, মহিলাদেরকে বেপর্দা অবস্থায় মুরীদ করা, বেপর্দাভাবে ঝাড়ফুঁক দেয়া, তাদের সাথে কথা বলা ইত্যাদি থেকে সম্পূর্ণভাবে বেঁচে থাকেন। এক কথায় শরী‘আত ও সুন্নাতপরিপন্থী কোন কাজ তিনি করেন না এবং মুরীদদেরকেও করতে দেন না।
*গ.* সমকালীন যুগের হক্কানী উলামায়ে কিরাম তাকে হক্কানী পীর বলে সমর্থন করেন এবং তাকে শ্রদ্ধা করেন। নিজেরা তার নিকট যাতায়াত করেন এবং অন্যদেরকেও উৎসাহিত করেন ইত্যাদি।
ভণ্ড খাজাবাবাদের মাঝে এসবের কোন একটি আলামতও পাওয়া যায় না। তাহলে তারা কীভাবে আল্লাহর ওলী হতে পারে?
🗒️ *নিজে পড়বেন এবং শেয়ার করে অন্যদেরকেও জানার সুযোগ করে দিবেন।*
No comments