ভ্রান্তি নিরসনঃ১

 *❀ ❀ ﷽  ﷽  ﷽  ﷽  ﷽  ❀ ❀*


                       *ভ্রান্তি নিরসন* 


🎍====  *পঞ্চম অধ্যায়, পর্ব-২* ====🎍


      *ভ্রান্তি নিরসন-১:* 


      সাহাবায়ে কিরামের ব্যাপারটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আল্লাহ তা‘আলা সূরা বাকারায় (আয়াত ১৩ ও ১৩৭) সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য সাহাবায়ে কিরামকে দ্বীন ও ঈমানের কষ্টিপাথর ও নমুনা হিসেবে পেশ করেছেন। একটি হাদীসে তিনি ইরশাদ করেছেন-‘আমার সাহাবীগণ নক্ষত্র সমতুল্য’। এদের থেকে তোমরা যাকেই অনুসরণ করবে, হিদায়াত পেয়ে যাবে।’ *[সূত্রঃ মিশকাত শরীফ খণ্ড ২, পৃষ্ঠা-৫৫৪]*  


      এ হাদীসটি শব্দের সামান্য পার্থক্য সহকারে অনেকগুলো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এসব সূত্রের মধ্য হতে কোনটির শুধু শব্দের ব্যাপারে কোন কোন মুহাদ্দিস কিছুটা আপত্তি করলেও তারা অর্থের ব্যাপারে কোন আপত্তি করেন নি। অথচ তাদের সে  আপত্তিকে না বুঝে অনেকে এতদসম্পর্কে বর্ণিত সকল সূত্রকে বাতিল বলে প্রচার করে। এটা তাদের চরম মূর্খতা। কোন একটা সূত্রের উপর আপত্তির কারণে অবশিষ্ট সবগুলো সূত্র কখনো বাতিল হতে পারে না। তেমনিভাবে অবশিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত হাদীস সমূহও বানোয়াট হওয়া প্রমাণিত হয় না।


      যা হোক, নমুনাস্বরূপ কয়েকটি আয়াত ও হাদীস ও পেশ করা হয়েছে, যার সারমর্ম হলো, সাহাবীগণ সত্যের মাপকাঠিস্বরূপ। তারা কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মানুষের জন্যে পথপ্রদর্শক ও আদর্শ। ঈমানের সাথে একবার যিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখেছেন, এবং ঈমানের সাথেই ইনতিকাল করেছেন, কিয়ামত পর্যন্ত সকল ওলী-বুযুর্গ মিলে তার সমতুল্য হবেন না। সুতরাং, এর দ্বারাই বোঝা যায় যে, তাদের মর্যাদা কত অধিক!


      অপরদিকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা বা তাদের সম্পর্কে  বিরূপ মনোভাব পোষণ করা কিংবা তাদের বিরূপ সমালোচনা করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। এমনকি  তিনি বলেছেন- “আমার সাহাবীগণের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো।” আমার ইনতিকালের পর তোমরা তাদেরকে সমালোচনার পাত্র বানিও না। কেননা, যে ব্যক্তি তাদেরকে ভালোবাসবে, সে প্রকৃতপক্ষে আমাকে ভালোবাসার কারণেই তাদেরকে ভালোবাসবে। আর যে ব্যক্তি তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, সে প্রকৃতপক্ষে আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করার কারণেই তাদের প্রতি বিদ্বেষ করবে। যে ব্যক্তি তাদেরকে কষ্ট দিল, সে আমাকে কষ্ট দিল। আর যে আমাকে কষ্ট দিল, সে আল্লাহ তা‘আলাকে কষ্ট দিল। আর যে আল্লাহ তা‘আলাকে কষ্ট দিল, তার গ্রেফতারী অতি নিকটেই। *[সূত্র: মিশকাত শরীফ খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৫৪।]* 


      এর দ্বারা বোঝা যায়, সাহাবীগণের সমালোচনা করা কত বড় মারাত্মক অপরাধ! যে ব্যক্তি সাহাবীগণের সমালোচনার করলো, সে এটা প্রমাণ করে দিল যে, তার অন্তরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি বিদ্বেষ আছে। আর সেটার বহিঃপ্রকাশের জন্যেই সে সাহাবীগণের সমালোচনার পথ বেছে নিয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা সকলকে হেফাজত করুন।


      অপর একটি হাদীসে  নবী পাক সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- “তোমরা যখন কাউকে সাহাবীগণের সমালোচনা করতে দেখ, তখন বলে দাও যে, তোমাদের ও সাহাবায়ে কিরামদের মধ্যে যারা নিকৃষ্ট, তাদের ওপর অর্থাৎ সমালোচনাকারীদের ওপর আল্লাহর লানত।” 


      *পাঠকবৃন্দ!* লক্ষ্য করুন, একদিকে সাহাবায়ে কিরাম সত্যের মাপকাঠি। অপরদিকে তাদের সমালোচনা করা হারাম, অনেক ক্ষেত্রে কুফরও বটে। আর তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা ও ভালোবাসা ঈমানের অংশ। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথাগুলো তাদের মাধ্যমেই উম্মতের নিকট এসে পৌঁছেছে। এসব দিক লক্ষ্য করেই উলামায়ে কিরাম সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যে ইতিহাস মানুষ কর্তৃক রচিত, এর মধ্যে আবার অনেকগুলোই ইসলামের দুশমনদের দ্বারা লিখিত। সুতরাং, এসব ইতিহাস নির্ভর তথ্যের ওপর যাচাই-বাছাই ছাড়া পরিপূর্ণরূপে বিশ্বাস করা অসম্ভব। তাই ইতিহাসের যে অংশটুকু কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সংঘাতপূর্ণ নয় এবং সাহাবায়ে কিরামের মর্যাদার সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যশীল, শুধুমাত্র ততটুকুই গ্রহণ করা হবে। অবশিষ্ট অংশ কোনক্রমেই গ্রহণ করা হবে না। 


      ঈমান-আকীদার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একমাত্র এরই ওপর পরকালে মানুষের নাজাত ও মুক্তি নির্ভরশীল। সুতরাং, ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে ঈমানের ওপর আচড় আসতে দেওয়া কোন জ্ঞানী লোকের পক্ষে শোভা পায় না। ফলতঃ সাহাবীগণ নির্ভরযোগ্য গণ্য না হলে সম্পূর্ণ দ্বীনের বুনিয়াদই নষ্ট হয়ে যায়। কারণ আমরা দ্বীন পেয়েছি সাহাবীগণের মাধ্যমেই।  


      কেউ বলতে পারেন, বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদীসে হযরত মা‘য়িম রাযি.এর দ্বারা যিনা সংঘটিত হওয়া এবং তাকে পাথর মেরে হত্যা করার ঘটনা উল্লেখ আছে। তেমনিভাবে অপর এক সাহাবীর মদ্যপান এবং তাকে শাস্তিদানের কথা উল্লেখ আছে। আর উভয় ঘটনাই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তাহলে সাহাবীগণ কীভাবে সত্যের মাপকাঠি হতে পারেন? তাছাড়া তাদের দ্বারাই তো সংঘটিত হয়েছে জংগে জামাল, জংগে সিফফীন এর ন্যায় ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ। তাহলে তাদেরকে কিভাবে সত্যের মাপকাঠিরূপে মেনে নেওয়া যায়? *তাদের এরূপ মন্তব্যের উত্তরে উলামায়ে কিরাম বলেনঃ* 


 *ক.* নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মতো সাহাবীগণ মাসুম বা নিষ্পাপ নন। তবে দ্বীনের জন্যে অকল্পনীয় ত্যাগ ও কুরবানীর কারণে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা তাদের মাগফিরাত ও জান্নাত প্রদানের কথা ঘোষণা করেছেন। *[সূত্র: সূরা তাওবা, আয়াত -১০০।]* 


      সুতরাং , তারা মাসুম না হলেও নিঃসন্দেহে তারা মাগফিরাত প্রাপ্ত ও জান্নাতী। তাই পরবর্তীদের জন্যে শুধ তাদের ভালো আলোচনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে; সমালোচনার অনুমতি কোনক্রমেই দেওয়া হয়নি। এর কারণ অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রত্যেকে নিজের দিকে লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবে যে, সে দ্বীনের জন্যে কতটুকু কুরবানী করেছে। নিজেকে কতটুকু গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে। প্রতি নিয়ত যে ব্যক্তি ভুল করেই চলেছে, তার জন্য কি মাগফিরাত প্রাপ্ত জান্নাতী মনীষীবৃন্দের সমালোচনা করা শোভা পায়? দ্বীন বুঝতে বা কায়িম করতে কি এ ধরণের আলোচনার কোন প্রয়োজন পড়ে? আর যদি তা না-ই হয়, তাহলে কোন প্রয়োজনে তারা নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হলো? সমুদ্রে নাপাক পড়লে, পেশাব পড়লে যেমন সমুদ্র নাপাক হয় না, বরং নাপাক তার অস্তিত্ব হারিয়ে বিলীন হয়ে যায়, তেমনি সাহাবীগণ তাদের অসাধারণ কুরবানীর বদৌলতে ছিলেন নেকীর সমুদ্র। সুতরাং তাদের দু’একজনের জীবনে যদি অসাবধানতা বশত দু’একটি গুনাহ সংঘটিত হয়ে যায়, তাহলে সে কারণে তাদের সমগ্র জীবনের কুরবানী থেকে চক্ষু বন্ধ করে তাদের সমালোচনা করা কোনক্রমেই বৈধ হতে পারে না। 


 *খ.* লক্ষাধিক সাহাবায়ে কিরামের রাযি. মধ্যে মুষ্টিমেয় কয়েকজন যদি কোন গুনাহ করে ফেলেন, তাহলে তাতে কি এ বিশাল জামাতের ওপর কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে ‍পারে এবং তাতে কি তাদের সত্যের মাপকাঠি ও উম্মতের পথপ্রদর্শক হওয়া বাতিল হয়ে যায়? দু’একজন থেকে যে ভুল হয়েছে, তাতো হাদীসে ভুল হিসেবে বা গুনাহ হিসেবে চিহ্নিতই করা হয়েছে। সুতরাং সেই ভুলের বিষয়ে  তাদেরকে অনুকরণ বা অনুসরণের তো কোন প্রশ্নই উঠে না। আর এরূপ একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে তো কত হিকমত নিহিত রয়েছে, তা আল্লাহ তা‘আলাই ভালো জানেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে প্রেরণ করা হয়েছিল শুধু আল্লাহর আহকাম বর্ণনা করার জন্য নয়; বরং প্রত্যেক আহকামের বাস্তবরূপ উম্মতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য। তাই খোদা না করুন, যদি কোন রাষ্ট্রে ইসলামী হুকমত কায়িম থাকা অবস্থায় কোন ব্যক্তির থেকে যিনা বা মদপানের অপরাধ সংঘটিত হয়ে যায়, তা প্রমাণ করার পদ্ধতি এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে তার শাস্তি প্রয়োগের নিয়ম কি হবে, এটা উম্মতের সামনে আসার জন্য এরূপ দু’একটি ঘটনা পথ নির্দেশনারই শামিল। তাছাড়া একজন মুমিন থেকে যদি ভুলক্রমে বা শয়তানের প্রবঞ্চনায় গুনাহ হয়ে যায়, তখন সেই ঈমানদারদের মানসিক অবস্থা কিরূপ হওয়া উচিত, এবং গুনাহ থেকে নিজেকে পাক-পবিত্র করার জন্যে কতটুকু পেরেশান হওয়া উচিত, এরও একটা নমুনা সেই ঘটনাসমূহ দ্বারা স্থাপিত হয়েছে। সেদিকে লক্ষ্য করলে এরূপ দু’একটি ঘটনার হিকমত বোঝা যায় এবং একথা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, ঐ ভুলের ব্যাপারে উম্মত তাদের অনুকরণ করবে না বটে, কিন্তু ঐ অবস্থায় তার মানসিক অবস্থা ও খোদার প্রতি ভয়-ভীতি কিরূপ প্রকাশ পাওয়া উচিত, সে ব্যাপারে উক্ত সাহাবী তার জন্যে দৃষ্টান্ত এবং অনুকরণীয় হবেন। সুবাহানাল্লাহ! আল্লাহর কাজের মধ্যে কত হিকমত থাকতে পারে! হযরত মা‘য়িয রাযি. থেকে যিনা হওয়ার পর তিনি নিজেই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দরবারে এসে বললেন ‘হে আল্লাহর নবী! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি । আমাকে পবিত্র করুন!’ অথচ তিনি নিজে না বললে এ ঘটনা প্রকাশ পেত না। একমাত্র খোদার ভয়ে তিনি এত পেরেশান হয়েছিলেন যে, নিজেকে পাক-পবিত্র করার জন্যে নিজেই অপরাধ স্বীকার করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন মা‘য়িয তুমি হয়তো তাকে স্পর্শ করেছ বা চুমো দিয়েছ? তিনি বললেন-না, আমি যিনাই করে ফেলেছি। চারবার স্বীকারোক্তির পর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে সঙ্গেসার করার বা পাথর মেরে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। তিনি অপরাধ করেছিলেন এ কথা ঠিক, কিন্তু তারপরও তিনি আমাদের ন্যায় অপরাধকারী সকল উম্মতের জন্যে গুনাহ মাফ করানোর ব্যাপারে নমুনা বা আদর্শ হয়ে আছেন। 


 *গ.* সাহাবা রাযি. কর্তৃক জংগে জামাল, জংগে সিফফীন সংঘটিত হয়েছিল- একথা ঠিক, কিন্তু কেউ কি বলতে পারবে যে, তারা ক্ষমতা দখলের জন্য বা দুনিয়াবী কোন স্বার্থে এসব যুদ্ধ করেছিলেন? এ সম্পর্কে যাদের যথার্থ জ্ঞান রয়েছে, তারা সকলেই স্বীকার করবেন যে, উভয় জামা‘আতের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর বিধান কায়িম করা। আর এ জন্যে তারা সাধ্যমতো প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু সাহাবীগণের উভয় জামা‘আতের মাঝে মুনাফিক ‘আবদুল্লাহ বিন সাবা’র বাহিনী এমনভাবে ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে রেখেছিল, যা থেকে পরিত্রান পাওয়া খুবই কঠিন ব্যাপার। এই ক্ষুদ্র পরিসরে সে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। সারকথা, সাহাবীগণের উভয় দলের মধ্যে কোন দলই দুনিয়াবি স্বার্থে এসব যুদ্ধ করেন নি। উভয় দলেরই উদ্দেশ্যই ছিল দ্বীন। আপাতদৃষ্টিতে একদলের সিদ্ধান্ত সঠিক মনে হলে, অপর দলের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে সমালোচনা করা যাবে না। কারণ এটা ভুল গণ্য হলেও তা ছিল ইজতিহাদী ভুল-যা ক্ষমার্হ। এ কারণে উভয় জামা‘আত থেকে যারা সেসব যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, তাদের সকলকে শহীদ বলা হয় এবং বহু বছর পর বিশেষ কারণে যখন তাদের কবর খনন করা হয়, তখন তাদের লাশ সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। *[সূত্র : আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২৫৯।]* কুরআন ও হাদীসের দৃষ্টিতে এটা শাহাদাতের আলামত। তাদের এই শাহাদত প্রমাণ করে যে, তারা দুনিয়ার লোভে এসব যুদ্ধ করেন নি। বরং দ্বীনের জন্যে করেছিলেন।


      এখানে একটি কথা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য যে, এসব ঘটনা আল্লাহ তা‘আলার ইলমে অবশ্যই ছিল এবং সামনে রেখেই তিনি সাহাবীগণের ব্যাপারে রাজি হওয়ার এবং তাদের জান্নাতী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এরপরও  আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে সেই মহান সাহাবীগণের সমালোচনা ও দোষচর্চার কি অধিকার থাকতে পারে? প্রত্যেকে যদি নিজের দোষ সংশোধনের চিন্তা করে, তাহলে কেউ এমন মহান ব্যক্তিবর্গের দোষচর্চা তো দূরের কথা, একজন সাধারণ ও নিম্নস্তরের মুসলমানের দোষচর্চায়ও লিপ্ত হতে পারে না। উপরন্তু এরূপ আলোচনা ‘গীবত’ হওয়ার কারণে শরী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম। যারা নিজের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন, নিজের ঈমান-আকীদার খবরও যাদের কাছে নেই, তারাই এরূপ হারামে লিপ্ত হওয়ার দুঃসাহস দেখাতে পারে।


      প্রত্যেকে নিজের বাপ-দাদার ব্যাপারে কত হুঁশিয়ার! কেউ তার বাপ-দাদার অন্যায় সমালোচনা বরদাশত করতে পারে না। অথচ সাহাবীগণের ইজ্জত-আব্রু সংরক্ষণ করা আমাদের পিতা-মাতা ও দাদা-নানার ইজ্জত-আব্রু সংরক্ষণের চেয়েও লক্ষ-কোটি গুণ বেশি জরুরী। মুসলমান হয়েও কিভাবে সাহাবীগণের দোষচর্চা করতে পারে, বা দোষচর্চা শুনে বরদাশত করতে পারে, তা বোধগম্য নয়। 

ভ্রান্তি নিরসনঃ২


         *•••==•◐◉✦❀✺❀✦◉◑•==•••* 


      🗒️ *নিজে পড়বেন এবং শেয়ার করে অন্যদেরকেও জানার সুযোগ করে দিবেন।*

No comments

Powered by Blogger.