ভ্রান্তি নিরসনঃ২
*❀ ❀ ﷽ ﷽ ﷽ ﷽ ﷽ ❀ ❀*
*ভ্রান্তি নিরসন*
🎍==== *পঞ্চম অধ্যায়, পর্ব-২* ====🎍
বর্তমানে অনেক নব্যশিক্ষিত লোক আলেম সমাজের বিরুদ্ধে বুঝে না বুঝে তাদের গুরুদের অনুকরণে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করে সমালোচনা করে থাকে। অথচ উলামায়ে কিরাম দ্বীনের কাজ করছেন, তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওয়ারিশ, তাই তাদেরকে গালি দেওয়া, তাদেরকে হেয় করা, তাদের সমালোচনা করা শরী‘আতের দৃষ্টিতে কুফরী কাজ। এতে ঈমান চলে যায়। আর ঈমান চলে গেলে অতীত জীবনের সমস্ত নেক আমল বরবাদ হয়ে যেতে পারে, বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যেতে পারে। মৃত্যুর পর কবরে তাদের চেহারা কিবলার দিক থেকে আপনা আপনি অন্য দিকে ফিরে যাবে বলে হাদীসে এসেছে। আল্লাহ তা‘আলা সকলকে হেফাযত করুন।
তাদের সেই অভিযোগ মূলত ভ্রান্তিপ্রসূত। সেই ভ্রান্তি নিরসনে তাদের উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের জবাব নিম্নে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আমরা অভিযোগগুলো উল্লেখপূর্বক তার জবাব এজন্যে প্রদান করছি, যাতে করে তাদের অভিযোগের যবনিকাপাত হয় এবং এরদ্বারা আলেম সমাজের দোষারোপ করা থেকে দূরে থেকে সরল প্রাণ মুসলমানগণ নিজেদের ঈমান বাঁচাতে পারেন।
*প্রথম অভিযোগঃ*
তারা অভিযোগ করে, উলামায়ে কিরাম মাদরাসার মধ্যে শুধু কুরআন-হাদীস কেন শিক্ষা দেয় ? এর সাথে বিভিন্ন রকম কারিগরি বা হস্ত শিল্প ইত্যাদি শিক্ষা দিতে তাদের বাধা কোথায় ?
*জবাবঃ*
অভিযোগকারীরা মূলত খারিজী মাদরাসায় শিক্ষার লক্ষ্যে-উদ্দেশ্যে সম্পর্কে বে-খবর। এজন্য তাদের মধ্যে এই আপত্তি উঠেছে। তাহলে শুনুন, দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোক দ্বারা পরিচালিত না হলে দুনিয়াতে কোন জিনিসই ভালোভাবে টিকে থাকতে পারে না। বরং কিছুদিন পরেই তা বিলুপ্ত হয়ে যায়।। দ্বীন ইসলাম মানবজাতির জন্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে দুনিয়াও আখিরাতের কামিয়াবির জন্যে সবচেয়ে বড় নেয়ামত । সুতরাং, এ নেয়ামতের স্থায়িত্বের জন্যে প্রত্যেক জামানায়, প্রত্যেক এলাকায় বিজ্ঞ ও পারদর্শী হক্কানী উলামায়ে কিরামের বড় একটি জামাত বিদ্যমান থেকে সহীহভাবে দ্বীনের সকল বিভাগে খিদমত আনজাম দেওয়া জরুরী। খারিজী মাদরাসারগুলোর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, মুসলিম মিল্লাতের এ দ্বীনি দায়িত্ব ও চাহিদা পূরণের জন্য হক্কানী ও আল্লাহওয়ালা বিজ্ঞ উলামা দল সৃষ্টি করা, যাতে দ্বীন ইসলামের স্থায়িত্ব ও প্রচার প্রসারে এবং মুসলমানদের দ্বীনি প্রয়োজন মিটাতে কোন ক্ষেত্রে কোন রকম সমস্যার সৃষ্টি না হয়। আল-হামদুলিল্লাহ, এ লক্ষ্যে একনিষ্ঠভাবে মাদরাসাসমূহ নীরব আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারই বদৌলতে চরম ফিতনার এ যুগে এখনো মুসলমানগণ সহীহ দ্বীন- ঈমান নিয়ে টিকে আছেন। এখন যদি মাদরাসাসমূহের সিলেবাসে হস্তশিল্প, কারিগর প্রশিক্ষণ প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে আর বিজ্ঞ পারদর্শী উলামা সৃষ্টি হবে না। যেমন সরকারী মাদরাসা থেকে হচ্ছে না এবং এটা কখনো সম্ভব নয়। কারণ, কুরআন হাদীসের জ্ঞান অত্যন্ত সূক্ষ্ণ ও সুগভীর। প্রখর ছাত্র যদি একনিষ্ঠভাবে এই জ্ঞান অধ্যয়ন করে, তাহলে সে এটা আয়ত্তে আনতে পারবে। কিন্তু দ্বীনি ইলমের সাথে দুনিয়াবি বিষয়ের মিশ্রণ ঘটালে, তার পক্ষে আর কোনভাবেই এটা সম্পূর্ণরূপে আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। কথায় বলে, ‘তোলা দুধে পোলা বাঁচে না।’ সুতরাং তখন যেসব নামকে ওয়াস্তে আলেম তৈরী হবে, তাদের দ্বারা দ্বীন ইসলাম টিকে থাকবে না এবং তাদের থেকে জনগণ সহীহ দ্বীনও পাবে না। তাই দ্বীন রক্ষার স্বার্থেই মাদরাসা কুটির শিল্প, কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রভৃতি প্রবেশ করানো হয় না।
বিষয়টি আরো পরিষ্কার করে বোঝাবার জন্যে অভিযোগকারীদের নিকট আমাদের প্রশ্ন যে, আপনারা এ ধরণের প্রস্তাব কেন দিচ্ছেন না যে, মেডিকেল কলেজে শুধু ডাক্তার তৈরী করা হচ্ছে কেন? সেখানে কিছু কমার্সের সাবজেক্টও ঢুকানো হোক। যাতে তাদের মধ্যে দু ধরণের যোগ্যতা সৃষ্টি হয়। তেমনিভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ- ইউনিভার্সিটিগুলোতে মেডিকেল সায়েন্স প্রবেশ করানো হোক। যাতে করে তারা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সাথে সাথে ডাক্তারও হতে পারে। ফলে তারা জাতির জন্যে দ্বিগুণ খিদমত আনজাম দিতে পারবে।
আজ পর্যন্ত কোন পাগলও এ ধরণের চিন্তা করেছি কি? নিশ্চয়ই নয় কারণ কী? কারণ এটাই যে, এতে দুটোর কোনটাই ভালোভাবে শিক্ষা লাভ করা যাবে না। তাহলে মাদরাসার ব্যাপারে আপনাদের এ ধরণের বেওকুফি প্রস্তাব কেন?
আসল কথা হচ্ছে, সেই অভিযোগকারীরা দ্বীনি ইলমের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে না। জেনে রাখুন, সকলের জন্য ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়া জরুরী নয়; কিন্তু প্রয়োজনীয় ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা প্রত্যেকের ওপর ফরয। প্রত্যেক মুসলিম ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও অর্থনীতিবিদের জন্য ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা ফরয। কিন্তু কোন আলেমের জন্যে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়া জরুরী নয়, বরং এটা সমীচীনও নয়। কারণ দুই লাইনের খিদমত কেউ কখনো একসঙ্গে আনজাম দিতে পারবে না। যে কোন একটা পূর্ণভাবে পাঠ করলে, অন্যটা বাদ পড়তে বাধ্য। সুতরাং উলামায়ে কিরামকে এ ধরণের অনর্থক পরামর্শ না দিয়ে তারা যদি স্কুল-কলেজে গিয়ে সেখানকার সিলেবাসে ফরযে আইন পরিমাণ ইলমে দ্বীন শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দেন তাহলে সেটা হবে সত্যিকার অর্থে মুসলিম জাতির কল্যাণ কামনা। তাতে মুসলিম ছেলেদের দ্বীন ও ঈমানের হেফাযত হবে। মুসলিম সন্তানরা খৃষ্টানী ও হিন্দুয়ানী কৃষ্টি-কালচারে প্রভাবিত বা প্ররোচিত না হয়ে ইসলামের দিকেই ধাবিত হতে থাকবে। বর্তমানে যে মুসলমান ও হিন্দু, মুসলমান ও খৃষ্টান, মুসলমান ও নাস্তিকের মাঝে হারামভাবে বিয়ে-শাদী হচ্ছে, তা দ্বীনি ইলম বিবর্জিত ভ্রান্ত শিক্ষানীতিরই কুফল। কোন জাতির শিক্ষানীতি যদি ভ্রান্ত হয় এবং শিক্ষার নামে কুশিক্ষা চলতে থাকে, তাহলে সে জাতির ধ্বংস অনিবার্য। তাই জাতিকে সেই ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে সচেষ্ট হোন এবং উলামায়ে কিরাম সম্পর্কে অযৌক্তিক চিন্তাধারা পরিত্যাগ করুন।
*দ্বিতীয় অভিযোগঃ*
আলেমগণ শুধু মসজিদ, মাদরাসা, খানকাহ আর ওয়াজ-নসিহত নিয়ে ব্যস্ত থাকেন কেন ? তারা কি জাতির জন্যে কিছু খিদমত আনজাম দিতে পারে না ? তারা ইচ্ছা করলে বিভিন্ন অফিস-আদালতে ব্যবসা-বাণিজ্যে, মিল-ফ্যাক্টরীতে শ্রম দিতে পারতেন! তাতে জাতির অনেক উপকার হতো।
*জবাবঃ*
কিছু লোক মাদরাসায় পড়ে দ্বীনি লাইনে পারদর্শী হয়েছেন, আলেম হয়েছেন, তেমনি আরো কিছু লোক জেনারেল লাইনে পড়ে পারদর্শী হয়ে কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ অর্থনীতিবিদ ইত্যাদি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এখন কি কেউ প্রশ্ন তুলবে যে, ডাক্তাররা শুধু হাসপাতালে আর ক্লিনিকে কেন ব্যস্ত থাকবে? তারা ব্যবসা-বাণিজ্যে, মিল-কারখানায় শ্রম দিলে তো জাতির অনেক উপকার হতো! নিশ্চয়ই এই প্রশ্ন কেউ করবে না। কারণ, ডাক্তার এই কাজ শুরু করলে জাতি বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে। ঠিক তেমনিভাবে উলামায়ে কিরাম যদি মিল-ফ্যাক্টরি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আত্মনিয়োগ করেন, তাহলে জাতি বিনা হিদায়াতে ঈমানহারা হবে। তারা ইলমে দ্বীনের সেবা থেকে বঞ্চিত হলে, নিঃসন্দেহে বিপথগামী হয়ে জাহান্নামের পথে অগ্রসর হবে। জাতিকে সেই ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতেই আলেম-উলামাগণ দ্বীনের যিম্মাদারী নিয়ে ব্যস্ত আছেন।
তদুপরি আলেমগণ জাগতিক উন্নতির মাধ্যমও বটে। কারণ, একটি হাদীসে পাকের সারকথা হলো. ‘কিছু লোক যে দ্বীন শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন, তাদেরকে উসিলা করে আল্লাহ তা‘আলা সকলকে প্রতিপালন করছেন ‘অন্য এক হাদীসের সারমর্ম হলো, ‘আলেম ও তালেবে ইলমের মাধ্যমে দ্বীন টিকে থাকার ওপরই জগতের স্থায়িত্ব নির্ভরশীল।’ বলা বাহুল্য, আলেম-উলামা ও তালিবে ইলমদের দ্বীনি খিদমতের বদৌলতেই আল্লাহ তা‘আলা জমিনে ফসল দিচ্ছেন, ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় বরকত দিচ্ছেন, কল-কারখানায় উন্নতি দান করছেন। এক কথায় চীন, রাশিয়া, জাপান, জার্মান, ইংল্যান্ড, আমেরিকাসহ সারা বিশ্ব টিকে আছে উলামায়ে কিরামের দ্বীনি খিদমতের উসিলায়। যেদিন এ দ্বীনি খিদমত বন্ধ হয়ে যাবে, সেদিন দুনিয়া আর টিকে থাকবে না। বরং সেদিন মহাপ্রলয় বা কিয়ামত সংঘটিত হয়ে সব ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে।
তাছাড়া আরো লক্ষ্য করুন, সংসদ সদস্যগণ মিল-ফ্যাক্টরীতে যোগদান করলে যেমন দেশ চলবে না, তেমনিভাবে উলামায়ে কিরাম জনগণের দ্বীনি খিদমত বাদ দিয়ে দুনিয়াবি কাজে লাগলে দুনিয়াও অচল হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। যারা মুসলমান, কুরআন-হাদীস স্বীকার করেন, তাদের সম্বিৎ ফেরাবার জন্যে আমরা এসব কথা পেশ করলাম। শরী‘আতের বিরুদ্ধাচরণকারী অবাধ্য নাস্তিক-মুরতাদের সাথে আমাদের কোন তর্ক-বিতর্ক নেই।
*তৃতীয় অভিযোগঃ*
আলেম সমাজ পরজীবী হয়ে বেঁচে থাকা পছন্দ করেন কেন ? তারা ব্যবসা-বাণিজ্যে বা দুনিয়াবী অন্য কোন পেশা অবলম্বন করে আত্মনির্ভরশীল হয়ে চলতে পারেন না ?
*জবাবঃ*
দুনিয়াবি শিক্ষায় পারদর্শী ও বড় বড় ডিগ্রিধারী লোকেরা অনেক শ্রম, সময় ও পয়সা ব্যয় করে বিভিন্ন লাইনে পারদর্শী হয়ে সেই লাইনে জাতির সেবা করছেন এবং জাতির নিকট থেকে তার বিনিময় গ্রহণ করে তার দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করছেন। এটাই সমগ্র বিশ্বের একটা সাধারণ নিয়ম। প্রত্যেকে তার লাইন অনুযায়ী জাতিকে সেবা করে বিনিময় গ্রহণ করবেন-এর মধ্যে দোষের কিছু নেই এবং এ জন্যে যারা নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, তাদেরকে কেউ পরজীবী বলে না। তাহলে প্রশ্ন হলো, উলামায়ে কিরাম সর্বাধিক গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এবং তাদের দক্ষতা অনুযায়ী জনগণের দ্বীনি সেবা ও খিদমতের জন্যে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন, এর বিনিময় হিসাবে জনগণ থেকে হালালভাবে কোন পারিশ্রমিক গ্রহণ করলে, কেন তাদেরকে পরজীবী বলা হবে? কওম ও জাতির পক্ষ থেকে এটা কি আলেম সমাজের প্রতি দয়া বা করুণা? তারা কি জাতির কম গুরুত্বপূর্ণ খিদমত আনজাম দিচ্ছেন? নাকি অল্প পরিশ্রমে অধিক বিনিময় গ্রহণ করছেন? বরং আলেমগণ জাতির বিরাট খিদমত আনজাম দিচ্ছেন। দুনিয়াও আখিরাতের কল্যাণের রাস্তা একমাত্র উলামায়ে কিরামই দেখাচ্ছেন। মানুষকে তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতের যোগ্য হওয়ার পথ প্রদর্শন করেছেন। তাছাড়া দুনিয়াতে এখনো লজ্জা-শরম বিবাহ-শাদী, পাক-পবিত্রতা, আমানতদারি-সততা যতটুকু বিদ্যমান আছে, তা একমাত্র উলামায়ে কিরামেরই অবদান। এর চেয়ে বড় খিদমত আর কি হতে পারে? এর তুলনায় অন্যদের যতরকম ক্ষণস্থায়ী ও নগণ্য খিদমতের কতটুকু মূল্য আছে? উলামায়ে কিরাম যথেষ্ট শ্রম দিয়ে কেবলমাত্র জীবনধারণ উপযোগী স্বল্প পারিশ্রমিক গ্রহণ করছেন। তাঁরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার শিক্ষকদের তুলনায় অতি সামান্য বিনিময় নিয়ে থাকেন। তারপরও অযথা এ আপত্তি কেন? আলেমগণের সম্পর্কে এ ধরণের অভিযোগ উত্থাপন জাতির জন্যে বড়ই পরিতাপের বিষয়। এর দ্বারা দ্বীনের কাজের গুরুত্বকে ছোট নজরে দেখা হয়, যা ঈমানের জন্যে ক্ষতিকর। আল্লাহ তা‘আলা সকলকে সহীহ ও সঠিক বিবেক বুদ্ধি দান করুন।
*•••==•◐◉✦❀✺❀✦◉◑•==•••*
🗒️ *নিজে পড়বেন এবং শেয়ার করে অন্যদেরকেও জানার সুযোগ করে দিবেন।*
No comments