নামাজের মধ্যে হাত কোথায় বাধবে?
নামাজের মধ্যে হাত কোথায় বাধবে?
______________________________
এ নিয়ে- শাইখ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ) একটি বই লিখেছেন (সালাতের মধ্যে হাত বাধার বিধান) বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ১১৪।
খুব মনোযোগ দিয়ে বইটির প্রথম থেকে (ভুমিকা থেকে) শুরু করে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। বইটিতে তিনি প্রথমে নামাজে হাত বাধার হাদিস গুলো এনেছেন এবং হাদিসের মান উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রায় ২২ টি হাদিস এনেছেন এবং এই হাদিস গুলোর ব্যাপারে পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল মুহাদ্দিস, ইমাম, ফকি উনারা কি বলেছেন তা উল্লেখ করেছেন।
তিন'শ হিজরি পর্যন্ত নামাজে হাত বাধার সকল হাদিসকে- তাবেঈ, তাবে তাবেঈন, ফকি ও ইমামগণ জঈফ হিসেবে নিয়েছেন। তাই তারা নামাজে হাত বাধার কোনো নির্দিষ্ট স্থানের কথা বলেননি। তারা সবাই একমত ছিলেন যে, নামাজে হাত বাধা সুন্নাত অথবা মুস্তাহাব। মুসুল্লি তার ইচ্ছা অনুযায়ী হাত রাখবে, হতে পারে সেটা নাভির উপরে অথবা নাভির নিচে অথবা। এই সবগুলোই সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। তারা কেউই বলেননি যে, হাত একমাত্র নাভির উপর রাখাই সুন্নাহ অথবা নাভির নিচে রাখাই সুন্নাহ।
পরবর্তীতে- শাইখ আলবানী (রহ) বুকের উপর হাত রাখার হাদিসকে সহীহ বলেছেন, যা আছে- ইবনে খুযাইমা ও আবু দাউদে। কিন্তু এই হাদিস গুলোর ব্যাপারে আগেকার সকল মুহাদ্দিসগণ জঈফ বলেছেন।
কাসীবা ইবনু হুলব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসুল (সাঃ) আমাদের ইমামতি করতেন এবং (দাঁড়ানো অবস্থায়) নিজের ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন। তিরমিযি- ২৫২/ মান: হাসান
ইমাম তিরমিযি (রহ) বলেন- সাহাবীগণ, তাবেঈগণ ও পরবর্তী যুগের আলিমগণ এ হাদিসের উপর আমল করেন। তারা মত প্রকাশ করেন যে, সালাতের মধ্যে মুসুল্লি তার ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে। তাদের কারো মতে হস্তদ্বয় নাভির উপরে রাখবে। আর কারো মতে হস্তদ্বয় নাভির নিচে রাখবে। বিষয়টি তাদের মতে প্রশস্ত। তিরমিযি, আস-সুনান- ২/৩২ (ভারতীয় ১/৫৯)
শাইখ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ) বলেন- এটা রাসুল (সাঃ) এর মুজেযা যে, তার প্রতিটি সুন্নাত কেউ না কেউ পালন করতেছে। তিনি আরো বলেন, যেখানে একাধিক সুন্নাহ আছে, সেখানে শুধু একটি সুন্নাহকে বেছে নিয়ে বাকি গুলো পালন করা যাবে না, এটা বলা যাবে না।
(মোট কথা নামাজে যেখানেই হাত বাধুক না কেনো, সে পরিপূর্ণ সাওয়াব পেয়ে যাবে।
এভাবে বলার কোনো সুযোগ নেয় যে, আমারটা সহীহ আর বাকি গুলো জঈফ)
আরো বিস্তারিত জানতে বইটি পড়ুন- (সালাতের মধ্যে হাত বাধার বিধান) বইটিতে তিনি ১১১ টি কিতাবের রেফারেন্স দিয়েছেন এবং হাদিস গুলোর মান উল্লেখ করেছেন। আমি মনে করি হানাফি এবং আহলে হাদিস ভাইদের বইটি পড়া উচিত।
জাযাকাল্লাহু খাইরান।
No comments